বাংলাদেশ আর কখনো কারও কাছে মাথানত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্নোত্তর পর্বে রুমিন ফারহানা জানতে চান, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হলে দেশের কী ধরনের সুবিধা হতে পারে।
জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে এই চুক্তিটি তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ এখনো এতে যোগদানের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি। ভবিষ্যতে চুক্তিভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করলে সরকার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের জোটে যোগ দেওয়ার প্রশ্নটি সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর নির্ভর করবে। বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব এলে তখন এর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এখনই চুক্তিটির ভালো-মন্দ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় আসেনি। কারণ বাংলাদেশ এখনো এর অংশ নয় এবং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
মক্কা চুক্তিকে মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার একটি সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, ভবিষ্যতে চুক্তিটি আরও বিস্তৃত হলে এটি বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে অন্যদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় মর্যাদার বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজস্ব স্বার্থ ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করবে। বাংলাদেশ আর কখনো কারও কাছে মাথানত করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে গত ৭ আগস্ট মক্কায় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরের তথ্য সামনে আসার পর আঞ্চলিক রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে এই উদ্যোগে যুক্ত হবে কি না, তা এখনো নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর আগ্রহ এবং বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসার ওপর।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ আপাতত মক্কা চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার আগে যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না।

0 Comments